গদ্য সাহিত্যের বিকাশ: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ধারা

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ধারা একাদশ শ্রেণী (বাঙ্গালীর ভাষা ও সংস্কৃতি (প্রথম পর্ব চতুর্থ অধ্যায়))

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ

বাঙ্গালীর ভাষা ও সংস্কৃতি প্রথম পর্ব চতুর্থ অধ্যায়ের অন্তর্গত গদ্য সাহিত্যের বিকাশ হতে ছোট ও বড় প্রশ্ন

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (ছোট প্রশ্ন)

১। অক্ষয়কুমার দত্তের দুটি স্কুলপাঠ্য বই-এর নাম লেখো।

অক্ষয়কুমার দত্তের দুটি স্কুল পাঠ্যশ্রেণির বই হল ভূগোল, চারুপাঠ।

২। সমাজকল্যাণে বিদ্যাসাগরের দুটি ভূমিকা উল্লেখ করো।

স্ত্রীশিক্ষা প্রচার, বিধবাবিবাহ প্রচলন ও বহুবিবাহ রোধ বিষয়ে তাঁর ভূমিকা অবিস্মরণীয়।

৩। বিদ্যাসাগরের চারটি অনুবাদমূলক গ্রন্থের নাম লেখো।

বিদ্যাসাগরের চারটি অনুবাদমূলক গ্রন্থ হল শকুন্তলা, সীতার বনবাস, ভ্রান্তিবিলাস ও বোধোদয়।

৪। ‘ব্রজবিলাস’ ও ‘রত্নপরীক্ষা’ গ্রন্থটি রচনার ক্ষেত্রে বিদ্যাসাগর কোন ছদ্মনাম ব্যবহার করেছিলেন ?

‘ব্রজবিলাস’ ও ‘রত্ন পরীক্ষা’ গ্রন্থ দুটি রচনার ক্ষেত্রে বিদ্যাসাগর ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য’ ছদ্মনাম ব্যবহার করেছিলেন।

৫। তারাশংকর তর্করত্ন-এর যে দুটি গদ্যগ্রন্থ পাঠকমহলে প্রচারিত ছিল তার নাম লেখো। 

তারাশংকর তর্করত্নের পাঠকমহলে প্রচারিত গদ্য-গ্রন্থ দুটি হল কাদম্বরী ও রাসেলাস।

৬। বিদ্যাসাগরের গদ্যভাষার বৈশিষ্ট্য কী?

বিদ্যাসাগর গদ্যে যতি সন্নিবেশ করে, পদবন্ধে ভাগ করে এবং সুললিত শব্দবিন্যাস করে তথ্যের ভাষাকে রসের ভাষায় পরিণত করেছেন।

৭। প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম কী ছিল?

প্যারীচাদ মিত্রের ছদ্মনাম ছিল টেকচাঁদ ঠাকুর।

৮। প্যারীচাঁদ মিত্র প্রধানত কোন্ গ্রন্থটির জন্য সুপরিচিত?

প্যারীচাদ মিত্র প্রধানত ‘আলালের ঘরের দুলাল’ গ্রন্থটির জন্য সুপরিচিত।

৯। প্যারীচাঁদ মিত্রের ‘আলালের ঘরের দুলাল’ গ্রন্থটির বিশেষত্ব কী? 

প্যারীচাঁদ মিত্রের ‘আলালের ঘরের দুলাল’ গ্রন্থটিই প্রথম বাংলা উপন্যাসের গৌরব বহন করছে।

১০। কালীপ্রসন্ন সিংহের দুটি পৌরাণিক নাটকের নাম লেখো।

কালীপ্রসন্ন সিংহের দুটি পৌরাণিক নাটক হল বিক্রমোর্বশী এবং সাবিত্রী সত্যবান।

১১। কালীপ্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম কী ছিল?

কালীপ্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম ছিল ‘হুতোম প্যাঁচা’।

১২। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুটি গদ্যনিবন্ধ গ্রন্থের নাম লেখো।

মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুটি গদ্যনিবন্ধ হল আত্মতত্ত্ববিদ্যা এবং জ্ঞান ও ধর্মের উন্নতি। 

১৩। রাজনারায়ণ বসু রচিত দুটি গ্রন্থের নাম লেখো।

রাজনারায়ণ বসু রচিত দুটি গ্রন্থ হল হিন্দু ধর্মের শ্রেষ্ঠতা, সেকাল আর একাল।


গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (বড় প্রশ্ন )

১। বাংলা গদ্য সাহিত্যের বিকাশে বিদ্যাসাগরের অবদান আলোচনা কর।

৫  (২০১৬, ২০১৮, ২০২০, ২০২৩)

ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার মাটিতে আবির্ভূত কয়েকজন জ্যোতির্ময় পুরুষ, ব্যক্তিস্বাতন্ত্রে উজ্জ্বল, কীর্তিমান বাঙালিদের মধ্যে অন্যতম হলেন পুণ্যশ্লোক মনীষী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। সাহিত্য, সমাজসংস্কার, মানবিকতাবোধ সর্বত্রই তিনি বিজয়পতাকা উড্ডীন করেছেন।

বিদ্যাসাগরের বাংলা গদ্যসাহিত্যে অবদান কতটুকু তার পরিমাপ করতে তাঁর সাহিত্যকীর্তির পরিচয় পাওয়া দরকার। তাঁর অনুবাদ গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে হিন্দি ‘বৈতালী পচ্চীসী’ নামক গ্রন্থের ভাবানুবাদ ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ (১৮৪৭), মহাকবি কালিদাসের অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’ নাটকের গদ্যানুবাদ ‘শকুন্তলা’ (১৮৫৪), ভবভূতির উত্তররামচরিতের প্রথম তিনটি অধ্যায় এবং বাল্মীকি রামায়ণের উত্তরকান্ড অনুসরণে ‘সীতার বনবাস’ (১৮৬০), শেকসপিয়রের ‘Comedy of Errors’-এর অনুবাদ ‘ভ্রান্তিবিলাস’ (১৮৬১)। অনুবাদ গ্রন্থগুলি প্রসঙ্গে বলা যায় গ্রন্থগুলি মৌলিক সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত, গদ্যের ভাষা উপস্থাপনা সম্পূর্ণ নিজস্ব, কোথাও কোথাও দেশকাল উপযোগী করে বিষয়বস্তুর পরিবর্তন করেছেন, কোনো-কোনো অনুবাদ ক্লাসিক সাহিত্য পর্যায়ে উন্নীত।

বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে ‘সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য শাস্ত্র বিষয়ক প্রস্তাব’ (১৮৫১), ‘বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব’ (১৮৫৫), ‘বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব’ (১৮৭১ ও ১৮৭৩); ব্যঙ্গ রচনা ‘অতি অল্প হইল’ (১৮৭৩), ‘আবার অতি অল্প হইল’ (১৮৭৩), ব্রজবিলাস’ (১৮৮৪); বিতর্কমূলক রচনা ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’ (১৮৬০) ‘বিদ্যাসাগর চরিত্র’ (১৮৯১); ছোটোদের জন্য গ্রন্থ ও শিশুপাঠ্য বর্ণপরিচয়’ (দু-খণ্ড), ‘বোধোদয়’ (১৮৫১), ‘কথামালা’ (১৮৪৫)।

বিদ্যাসাগর পূর্বেই বাংলা গদ্যসাহিত্য ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের আঙিনায় চর্চিত হয়েছে বা বাংলা গদ্যের নবধারা প্রবর্তিত হয়েছে রামমোহনের লেখনীতে। তবু বিদ্যাসাগরই বাংলা গদ্যভাষাকে ছেদ চিহ্ন ব্যবহারের মাধ্যমে, শব্দবিন্যাসের কৌশলে সরসতায় উন্নীত করেছিলেন বলেই তাকে ‘বাংল গদ্যের জনক’ আখ্যা দিতে কোনো দ্বিধা থাকে না। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন “বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যভাষার উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে সুবিভক্ত, সুবিন্যস্ত, সুপরিচ্ছন্ন এবং সুসংযত করিয়া তাহাকে সহজ গতি বা কার্যকুশলতা দান করিয়াছেন।”  

বিদ্যাসাগরের গদ্য রচনায় সংস্কৃত-সমৃদ্ধ সাধুভাষার বহুল প্রয়োগ, কোনো-কোনো রচনায় সাহিত্যিক মাত্রা ও সংযত কলাকৌশলের অভাব ও অপ্রচলিত সংস্কৃত শব্দের প্রয়োগ রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিদ্যাসাগর তার স্বকীয় কীর্তিতে সুমহান। 


২। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগোষ্ঠীর মধ্যে প্রধান দুজনের নাম উল্লেখ করে বাংলা গদ্যের ক্রমবিকাশে তাদের কৃতিত্বের পরিচয় দাও।  

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগোষ্ঠীর মধ্যে প্রধান দুজনের নাম হল উইলিয়াম কেরি ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

উইলিয়াম কেরি (১৭৬১ ১৮৩৪) :- বাংলা গদ্যভাষা সৃষ্টির আয়োজক তন্তুবায় এডমন্ড কেরির পুত্র উইলিয়াম কেরি খ্রিস্টধর্ম প্রচারের জন্য কলকাতায় এসে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের দায়িত্ব গ্রহন করেন। তিনি ‘কথোপকথন’ (১৮০১) ও ‘ইতিহাসমালা’ (১৮১২) নামে দুটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন। লেখকের গদ্যগ্ৰন্থ কথোপকথন থেকে বাংলা গদ্যসাহিত্য যেদিক থেকে সমৃদ্ধ হয়েছে তা হল বাংলা ভাষা ও বাঙালি সমাজ সম্বন্ধে পরিচিতি লাভ। গ্রাম্য দৈনন্দিন জীবনের মতো যোগযুক্ত হতে হলে যে ভাষায় কথা বলে নারী পুরুষ, তাকে গ্রন্থে তুলে ধরেছেন। তার ইতিহাসমালা গ্রন্থটি মৌলিক সৃষ্টি নয়, দেশি-বিদেশি ১৫টি গল্প নিয়ে সংকলিত এই গ্ৰন্থটির ভাষা সহজ সরল প্রাঞ্জল সাধুরীতির অনুগামী।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার (১৭৬২ ১৮১৯) :- বাংলা গদ্যসাহিত্যের ইতিহাসে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকারকে একজন যথার্থ ভাষাশিল্পী বলা যায়। তিনি ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রধান পণ্ডিত। লেখকের বত্রিশ সিংহাসন’ (১৮০২) গ্ৰন্থটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সার্থক বাহন। এমনকি বিদ্যাসাগরের ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ (১৮৪৭) ভাষার সাথে তুলনা করলে কোনো অংশেই ভাষাকে নিকৃষ্ট বলা যাবে না। লেখকের হিতোপদেশ (১৮০৮) গ্ৰন্থটিতে সংস্কৃত ভাষার প্রয়োগ বেশি থাকায় গাম্ভীর্যভাব লক্ষ্য করা যায়। 

মৃত্যুঞ্জয় রাজাবলি (১৮০৮) গ্রন্থে ইতিহাসাশ্রিত ঘটনায় লোকভাষা প্রয়োগ করে যে নিদর্শন রেখেছেন, তা চিরস্মরণীয়। লেখকের প্রবোধচন্দ্রিকা’য় (১৮১০) জ্যোতির্বিজ্ঞান, তর্কশাস্ত্র, ব্যাকরণ, রাজনীতি, আইন প্রভৃতি জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানান বিষয়ের অবতারণা রয়েছে। এখানে লেখকের বিশেষত্ব এই যে লেখক বিষয় অনুযায়ী ভাষা প্রয়োগ করেছেন।


৩। বাংলা গদ্যসাহিত্যের বিকাশে রামমোহন রায়ের অবদান সম্বন্ধে আলোচনা করো।

বাংলা গদ্যসাহিত্যের আকাশে এক অসাধারণ পুরুষ, আধুনিকতার অগ্রদূত, ভারতীয় জীবনচেতনার উম্মেষস্বরূপ হলেন রাজা রামমোহন রায়। যিনি সম্পূর্ণ সংস্কারবিহীন হয়ে হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিস্টান ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে স্বকীয় চিন্তায় ও মননে, যুক্তিগ্রাহ্য বিশ্লেষণে ধর্ম আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং এক নতুন ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন।

রামমোহন রায়ের রচিত গ্রন্থসমূহ হল ‘বেদান্তগ্রন্থ’, ‘বেদান্তসার’ (১৮১৫), ভট্টাচার্যের সহিত বিচার’ (১৮১৭); ‘সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক নিবর্তক সংবাদ’ (১৮১৮-১৮১৯); ‘গোস্বামীর সহিত বিচার’ (১৮১৮); ‘উপনিষদের অনুবাদ’ (১৮১৬); ‘কবিতাকারের সহিত বিচার’ (১৮২০), ‘ব্রাহ্মণ সেবধি’ (১৮২১); ‘পথ্য প্রদান’ (১৮২০); ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ (১৮৩৩), ‘ব্রহ্মসংগীত’ (১৮২৮) প্রভৃতি। 

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত-মুনশিরা বাংলা গদ্যকে কাহিনি ও গল্প প্রকাশের বাহন করে তুলে ছিলেন। কিন্তু রামমোহন তাকে যুক্তিতর্কের নিরিখে বিশ্লেষণ করে এবং গভীর আত্মসংযমের মধ্য দিয়ে বিষয়কে উপস্থাপিত করেছেন। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, “কী রাজনীতি, কী বিদ্যাশিক্ষা, কী সমাজ, কী ভাষা, আধুনিক বঙ্গদেশে এমন কিছুই নাই রামমোহন রায় স্বহস্তে যাহার সুত্রপাত করিয়া যান নাই।” 

আধুনিক চিন্তাভাবনার প্রবর্তক রামমোহন ইংরেজি শিক্ষা প্রবর্তন করেছিলেন, ইংরেজির অনুসরণে বাক্যে ছেদচিহ্নের ব্যবহার করেছিলেন, তবে তাঁর গদ্যভাষায় বেশ কিছু ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়। তা হল তার গদ্য যুক্তিতর্কে সজ্জিত হওয়ায় গদ্যমাধুর্য বা সরসতা হারিয়েছে। তবে এ কথা বলা যায় যে, রামমোহনই ভারতবর্ষকে এগিয়ে যাওয়ার পথনির্দেশ করেছিলেন। শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে “তাহার গদ্য লালিতমধুর না হইলেও মননদীপ্ত ও ভাবের সনুন্নতিতে মর্যাদাময়”।


৪। বাংলা গদ্যসাহিত্যের বিকাশে অক্ষয়কুমার দত্তের অবদান সম্পর্কে আলোচনা করো। ৫

বাংলা মননশীল গদ্যসাহিত্যের অনন্য রূপকার বাঙালির চিন্তনে যাঁর শক্তির সঞ্চারণ এবং বিশুদ্ধ নির্মোহ বুদ্ধির যিনি চর্চাকার তিনি হলেন অক্ষয়কুমার দত্ত (১৮২০-১৮৮৬)। অক্ষয়কুমারের রচনার উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষামুলক ও বৈজ্ঞানিক যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বেশ কিছু স্কুলপাঠ্য গ্ৰন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ভূগোল’ (১৮৪১), আদিরসাত্মক একটি কাব্য ‘অনঙ্গমোহন’ (১৮৩৪), জর্ড কুম্ব নামক ইংরেজ লেখকের The Constitution of Man’ অবলম্বনে ‘বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার’ (১ম খন্ড ১৮৫১ ও ২য় খন্ড ১৮৫৩), কুম্বের Moral Philosophy অবলম্বনে রচিত ‘ধর্মনীতি’ (১৮৫৬), সর্বাধিক প্রচারিত গ্রন্থ ‘চারুপাঠ’ (১ম খণ্ড ১৮৫২, ২য় খন্ড ১৮৫৪ ও  ৩খণ্ড ১৮৫৯) ‘পদার্থবিদ্যা (১৮৫৬), গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়’ (১ম খন্ড ১৮৭০ ও ২য় খন্ড ১৮৮৩), ‘প্রাচীন হিন্দুদের সমুদ্রযাত্রা’ (১৯০১), ‘পাণ্ডবদের অস্ত্রশিক্ষা’, ‘কলিকাতার বর্তমান দুরবস্থা’ প্রভৃতি।

জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের জ্ঞানপিপাসা নিবারণে অক্ষয়কুমারের নাম মনে রাখার মতো। বাংলা গদ্যভাষার শব্দবিন্যাসে আড়ম্বরপূর্ণ রচনার মূল কারিগর অক্ষয়কুমার। তবে ভাষা প্রয়োগে সংস্কৃত ভাষার আধিক্যে ও দীর্ঘ সমাসবদ্ধ পদবিন্যাসে গদ্যের গতি শ্লথ, ভাষা আড়ষ্ট। তবে তিনি একজন বলিষ্ঠ চিন্তাশীল কুশলী প্রাবন্ধিক।


Leave a Comment