গুরু: একাদশ শ্রেণী বাংলার পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ হতে নাটক

গুরু একাদশ শ্রেণী বাংলা সাহিত্য চর্চার পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ হতে নাটক। গুরুর রচয়িতা হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। গুরু নাটক হতে বড় প্রশ্ন ও উত্তর নিম্নে দেওয়া হল। Bengali Class xi / Eleven  GURU Question Answer. পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ হতে নাটক গুরু হতে 5 নং প্রশ্ন ও উত্তরগুলি দেওয়া হল।

বিষয়বাংলা পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ
শ্রেণীএকাদশ শ্রেণী 
গল্পগুরু (নাটক)
রচনারবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গুরু

Table of Contents

গুরু নাটক হতে বড় প্রশ্ন ও উত্তর

গুরু – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


১. মহাপঞ্চকের সঙ্গে আচার্য অদীনপুণ্যের বিরােধ বাধল কেন? কে, কোথায় অদীনপুণ্যের নির্বাসন দিলেন?

(২০১৪, ২০১৮, ২০২৩) 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গুরু’ নাটকে মহাপঞ্চকের সঙ্গে আচার্য অদীনপুণ্যের বিরােধের সূচনা গুরুর আগমনের পটভূমিকায়। আচার্য হওয়া সত্ত্বেও অদীনপুণ্যের মনে সংশয় “..হয়তাে অপরাধের মাত্রা পূর্ণ হয়েছে বলেই তিনি আসছেন।” অন্যদিকে মহাপঞ্চক “অহােরাত্র একেবারে নিয়মে বাধা” অচলায়তনে যে শান্তি খুঁজে পান তা ‘নিশ্চল শান্তি’। আত্ম উপলব্ধির এই পথ ধরেই একদিন অদীনপুণ্য শাস্ত্রের শাসন ও শাস্ত্রের প্রতি অন্ধ আনুগত্য থেকে বেরিয়ে আসেন। 

মহাপঞ্চককে হতচকিত করে দিয়ে তিনি বলেছেন যে, উত্তর দিকের জানলা খােলার জন্য সুভদ্রর কোনাে প্রায়শ্চিত্ত করার দরকার নেই। তার উক্তি  ‘যদি কোনাে অপরাধ ঘটে সে আমার।’ সুভদ্রকে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন যে সে কোনাে অপরাধ করে নি, যারা বিনা অপরাধে মুখ বিকৃত করে তাকে হাজার হাজার বছরের ভয় দেখাচ্ছে পাপ তাদেরই। 

অচলায়তনের উদ্দেশ্যে মহাপঞ্চকের স্পষ্ট বিদ্রুপ ধ্বনিত হয়। মহাপঞ্চক এই ঘটনাকে সনাতন ধর্মের বিনাশ বলে চিহ্নিত করেন। তার কাছে এ হল আচার্যের ‘বুদ্ধিবিকার’। মহাপঞ্চক স্পষ্ট ঘােষণা করেন – “এই অবস্থায় ওঁকে আচার্য বলে গণ্য করাই চলবে না।” এভাবেই আপাতভাবে সুভদ্রের উত্তর দিকের জানলা খােলাকে কেন্দ্র করে আচার্য অদীনপুণ্যের সঙ্গে মহাপঞ্চকের বিরােধ বাধলেও এ আসলে মহাপঞ্চকের অন্ধত্বের সঙ্গে অদীনপুণ্যের আত্মজাগরণের দ্বন্দ্ব।

স্থবিরপত্তনের রাজা মন্থরগুপ্ত আচার্য অদীনপুণ্যকে অচলায়তনের প্রান্তে দর্ভকপল্লিতে নির্বাসন দিয়েছিলেন।


২. “শুনেছি অচলায়তনে কারা সব লড়াই করতে এসেছে।” – শিক্ষায়তন কীভাবে অচলায়তনে পরিণত হয়েছিল? সেখানে কারা লড়াই করতে এসেছিল এবং কেন?

(২০১৪, ২০১৯, ২০২৩) 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গুরু’ নাটকে অচলায়তন আপাতভাবে শিক্ষায়তন হলেও শাস্ত্র, আচার-বিচার আর সংস্কারে নিমজ্জিত সেই আয়তন শেষ অবধি অচলায়তনেই পরিণত হয়। এই অচলায়তনে পাথরকে সত্য বলে বিশ্বাস করা হয়, পাথরে ঘাস জন্মানাে হয় নিন্দিত। কুলদত্তের ক্রিয়াসংগ্রহ, ভরদ্বাজ মিশ্রের প্রয়ােগ প্রজ্ঞপ্তি আর জ্বলনানন্তের আধিকর্মিক বর্ষায়ণে অচলায়তন পথের সন্ধান করে। এর ব্যাখ্যায় আচার্য বলেছেন, “এখানকার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখানকারই সমস্ত শাস্ত্রের ভিতর থেকে পাওয়া যায়…”। মুক্ত জীবনের বার্তাবাহক পঞ্চককে তাই অচলায়তনে ‘দুর্লক্ষণ’ বলে চিহ্নিত করা হয়। 

বালক সুভদ্র কৌতূহল বশত আয়তনের উত্তর দিকের জানলা খুলে দিলে তাকে ভয়ংকর পাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর সকলেই তাকে প্রায়শ্চিত্ত করানাের জন্য ব্যকুল হয়ে ওঠে। উপাধ্যায় যখন বলেন “তুচ্ছ মানুষের প্রাণ আজ আছে কাল নেই, কিন্তু সনাতন ধর্মবিধি তাে চিরকালের।” তখন শাস্ত্রকে মানবতার ওপরে স্থাপন করা হয়। আর শিক্ষালয়ের অচলায়তনে পরিণত হওয়াও নিশ্চিত হয়ে যায়।

দাদাঠাকুরের নেতৃত্বে যূনকেরা সেখানে লড়াই করতে এসেছিল। আপাতভাবে চণ্ডকের হত্যা এবং দশজন যূনককে কালঝন্টি দেবীর কাছে বলি দেওয়ার জন্য ধরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশোধ নেওয়া তাদের উদ্দেশ্য হলেও, আসলে তারা এসেছিল অচলায়তনের পাপের প্রাচীরকে ধুলােয় মিশিয়ে দিতে।


৩. “ও আজ যেখানে বসেছে সেখানে তােমাদের তলােয়ার পৌঁছােয় না।” – কার সম্পর্কে কে একথা বলেছেন ? এই বক্তব্যের তাৎপর্য কী ?

(২০১৪, ২০১৮)

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গুরু’ নাটকে দাদাঠাকুর মহাপঞ্চক সম্বন্ধে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছেন। 

দাদাঠাকুরের নেতৃত্বে যুনকরা অচলায়তনের প্রাচীর ভেঙে ফেলার পর একে একে সকলেই সেই পরিবর্তনকে মেনে নিতে শুরু করে। বাইরের আলাে, বাতাস বা পাখির ডাকে উচ্ছ্বসিত হয়ে ছেলের দল ছুটে বেড়াতে চায়। কিন্তু মহাপঞ্চক তার সংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাসের রেখাকে কিছুতেই অতিক্রম করতে পারেন না। ফলে আচার সংস্কারের ঘেরাটোপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত যূনকদের কাছে তার কথাবার্তাকে পাগলের প্রলাপ মনে হয়। প্রথম যুনক মজা করে মহাপঞ্চককে বন্দি করার কথা বলে। দ্বিতীয় যূনক মহাপঞ্চককে শাস্তি দেওয়ার কথা বলে। এই শাস্তিদান প্রসঙ্গেই দাদাঠাকুর বা গুরু প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেন।

অচলায়তনের প্রাচীর ভেঙেছে, মহাপঞ্চক একা হয়ে গেছেন, কিন্তু নিজের মতাদর্শ থেকে কিছুতেই তিনি সরে আসেন নি। দাদাঠাকুর মহাপঞ্চকের মতাদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীতে থেকেও এই চারিত্রিক দৃঢ়তা, আপন মতাদর্শের প্রতি অটল আস্থা এবং সততাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তার মনে হয়েছে, যে নিষ্ঠা নিয়ে মহাপঞ্চক তার জীবনাদর্শ পালন করেন, সেখানে তাকে শাস্তি দেওয়া দূরে থাক, স্পর্শ করাও কোনাে ভাবেই সম্ভব নয়। দাদাঠাকুরের দৃষ্টিভঙ্গির এই ব্যাপকতাই মহাপঞ্চক চরিত্রটির মধ্যে এই ইতিবাচক দিকটিকে খুঁজে নিতে সমর্থ হয়।


৪. “একটু উৎপাত হলে যে বাঁচি”—কে বলেছে? কোন উৎপাত? সে উৎপাত চায় কেন?

(২০১৫) 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গুরু’ নাটকের অন্যতম প্রধান চরিত্র পঞ্চক আলোচ্য কথাটি বলেছে।

বহুদিনের প্রচলিত সংস্কারে বন্দি অচলায়তনে গুরুর আগমন বার্তায় সকলের সঙ্গে পঞ্চকও উদবিগ্ন। জীবনের প্রকৃত আদর্শ কী হওয়া উচিত সেই বিষয়ে তার গুরুর সাহায্য প্রয়ােজন। এই কথা সে যখন যূনকদের নেতা দাদাঠাকুরকে জানায় তখন দাদাঠাকুর তাকে বলে যে গুরুর আসা মানেই অনেক উৎপাত বাড়বে। কিন্তু পঞ্চক এই উৎপাতই সাধ করে পেতে চায়।

প্রতিদিনের একঘেয়ে বদ্ধ জীবনযাপনে পঞ্চক হাঁপিয়ে উঠেছে। সে কিছু পরিবর্তন চায়, নতুনত্বের আস্বাদ পেতে চায়, খােলা আকাশের নীচে মুক্ত কণ্ঠে গান গেয়ে মুক্ত মনে ছুটে বেড়াতে চায়। খাঁচায় বদ্ধ পাখির মতাে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, এর থেকে সে মুক্তি পেতে চায়। নড়চড়হীন অচল জীবন বদ্ধ জলাশয়ের মতাে মজে যায়। সেটা তখন মৃত্যুরই দোসর হয়ে ওঠে। তাই জীবনে গতির সঞ্চার করতে হয়, যাতে সে মুক্তির আনন্দ উপভােগ করতে পারে। কাজকর্মের মধ্য দিয়েই পঞ্চক জীবনে গতির সঞ্চার করতে চায়। কর্মীরা প্রতি মুহূর্ত বেঁচে উঠছে, সুতরাং জীবনের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত ‘চরৈবেতি’। তাই পঞ্চক বৈচিত্র্যহীন, নীরস জীবনে একটু উৎপাতই চেয়েছে।


৫. “উনি গেলে তােমাদের অচলায়তনের পাথরগুলাে সুদ্ধ নাচতে আরম্ভ করবে, পুথিগুলাের মধ্যে বাঁশি বাজবে।” – বক্তা কে ? ‘উনি’ কে ? মন্তব্যটির তাৎপর্য আলােচনা করাে।

(২০১৫) 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গুরু’ নাটকে আলোচ্য উক্তিটি করেছে প্রথম যূণক। 

আলোচ্য অংশে ‘উনি’ বলতে দাদাঠাকুর তথা গুরুর কথা বলা হয়েছে। 

আলোচ্য গুরু নাটকে সবরকম ধর্মীয় সংকীর্ণতার বাইরে ছিল দাদাঠাকুরের অবস্থান। পঞ্চকের মুখে অচলায়তনে গুরুর আগমন বার্তায় দাদাঠাকুর বলেন, “ভারি উৎপাত করবে তা হলে তাে।” গুরুবাদের নামে সমাজে যে গােষ্ঠীবদ্ধতা এবং আচরণ-নির্ভরতা তৈরি হয় তার বিরােধিতা করেন দাদাঠাকুর। প্রথম যূনক তাই যথার্থই বলেছে, “উনি আমাদের সব দলের শতদল পদ্ম।” দাদাঠাকুরের মূল লক্ষ্যই হল জীবনের যথাযথ প্রতিষ্ঠা। 

অচলায়তন জীবনকে দেখে শাস্ত্রের আবদ্ধতায়, আচরণ আর নিয়মের শৃঙ্খলে। সুভদ্রের উত্তর দিকের জানলা খােলা তাই সেখানে অপরাধ, পঞ্চকের গান গাওয়া মতিভ্রম বলেই গণ্য হয়। বাইরের আলাে-হাওয়ারও সেখানে প্রবেশের অধিকার নেই। তাই যুনকরা মনে করে সেখানে মুক্ত জীবনের প্রতীক দাদাঠাকুর প্রবেশ করলে বিরাট পরিবর্তন আসবে, খুলে যাবে অচলায়তনের বদ্ধ কপাট। রুদ্ধ অচলায়তনের পাথরগুলােও নৃত্যচপল হয়ে উঠবে। জীর্ণ আচারের সংকলন পুথিগুলাের মধ্যে বাঁশির সুর শােনা যাবে। অর্থাৎ, দাদাঠাকুর যদি অচলায়তনে যান, তা হলে সেখানে ভেঙে যাবে প্রথার প্রাচীর, ঢুকে পড়বে প্রাণের অপ্রতিরােধ্য প্রবাহ।


৬. “আমি তার কান্না আমার বুকের মধ্যে করে এনেছি।” – বক্তা কে? কোন্ প্রসঙ্গে কাকে উদ্দেশ্য করে বক্তা একথা বলেছেন? এই বক্তব্যের মধ্যে বক্তার চরিত্রের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে ?

(২০১৫, ২০১৯) 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গুরু’ নাটকে উদ্ধৃত সংলাপের বক্তা হলেন আচার্য অদীনপুণ্য।

সুভদ্রের মর্ম নিঙড়ানাে চোখের জল প্রসঙ্গে পঞ্চককে উদ্দেশ্য করে বক্তা একথা বলেছেন।

গুরু মুক্তিসাধনার জন্য যে আয়তনের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাকে সংস্কারশাসিত অচলায়তনে পরিণত করার অন্যতম হােতা ছিলেন স্বয়ং আচার্য। শাস্ত্রনির্ভর জীবনবিমুখ ধর্মাদর্শের প্রতিষ্ঠা ও তার অনুবর্তনে অদীনপুণ্য ছিলেন উপাধ্যায় বা মহাপঞ্চকের মতাে একনিষ্ঠ। অমিতায়ুর্ধারণী মন্ত্র, বজ্রশুদ্ধিব্রত, অষ্টাঙ্গশুদ্ধি উপবাস যেমন সেখানে ছিল, তেমনি ছিল মহাতামস ব্রতের মতাে মৃত্যুশীতল করুণ ব্রতও। বালক সুভদ্রের আয়তনের উত্তরের জানালা খােলার একমাত্র প্রায়শ্চিত্ত তাকে দিয়ে মহাতামস ব্রত করানাে, কিন্তু আচার্য চান এই প্রাণঘাতী নিয়ম থেকে তাকে নিবৃত্ত করতে। তাঁর এই চেষ্টা সুকোমল চিত্তবৃত্তির পরিচায়ক। 

সুভদ্রের প্রতি মানবিক সংবেদনশীলতা মানুষ হিসেবে স্বাভাবিক। কিন্তু অচলায়তনের একজন আচার্য হিসেবে দেখলে এ তাঁর নিজেকে নতুন করে চিনবার প্রচেষ্টা। সুভদ্রের উদগত কান্নাকে বুকের মধ্যে করে তিনি আয়তন ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন দীনহীন দর্ভক পল্লীতে। যে মন্ত্রের শাসনকে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা এক ছােট্ট শিশুর মনকে কীভাবে চেপে বসেছে তাই দেখে তিনি শিউরে উঠেছেন। তাই তিনি মন্ত্রতন্ত্রের প্রাণরােধকারী বজ্রমুষ্টি আর অভ্যাসের নিরলস চক্রাবর্তন থেকে বেরিয়ে এসেছেন উদার মানবিকতার আলােকময় পথে।


৭. “তার রাগটা কী রকম সেইটে দেখবার জন্যই তো এ কাজ করেছি !” – বক্তা কে ? এখানে কার রাগের কথা বলা হয়েছে ? তিনি রেগে গেলে কী হয় ? তাঁর রাগের ধরন দেখার জন্য বক্তা কী করেছিল ?

(২০১৬, ২০২০) 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘গুরু’ নাটকে আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন সংস্কার মুক্ত প্রাণ চঞ্চল চরিত্র পঞ্চক।

এখানে মহাময়ূরী দেবীর রাগের কথা বলা হয়েছে।

মহাময়ূরী দেবী রেগে গেলে যার ওপর রুষ্ট হন, তাকে তিন দিনের মধ্যে বিষধর সাপ এসে দংশন করে।

গত মাসের শনিবারে ছিল মহাময়ূরী দেবীর পূজা। সেদিন পঞ্চক কাঁসার থালায় ইঁদুরের গর্তের মাটি রেখে তার ওপর পাঁচটা শেয়ালকাটার পাতা আর তিনটে মাষকলাই সাজিয়ে নিজেই আঠারোবার ফুঁ দেয়। অচলায়তনের নিয়মানুযায়ী এই কাজের ফল হল মহাময়ূরী দেবী ক্রুদ্ধ হবেন এবং তিনদিনের দিন এক বিষধর সাপ এসে তাকে দংশন করবে। কিন্তু পঞ্চক এই নিষিদ্ধ প্রথা উপেক্ষা করে কাজটি করেছে তবু, তার কোনো রূপ বিঘ্ন ঘটে নি।


৮. “তোমার এই অসামান্য সাহস দেখে উপাধ্যায়মশায়ের মুখে আর কথা নেই।” – এখানে কার সাহসের কথা বলা হয়েছে ? সে কীভাবে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিল ? উপাধ্যায়মশায়ের মুখে কথা নেই কেন ?

(২০১৬, ২০২০) 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গুরু’ শীর্ষক নাটকে অচলায়তনের শান্ত, নম্র স্বভাববিশিষ্ট শিক্ষার্থী সুভদ্রের সাহসের কথা বলা হয়েছে।

আলোচ্য উদ্ভিটি করেছে অচলায়তনের সমস্ত শিক্ষার্থী অপেক্ষা ভিন্ন মনের অধিকারী আচারসর্বস্ব শিক্ষার বিরোধী মনোভাবাপন্ন শিক্ষার্থী পঞ্চক।

 অচলায়তন নানান নিয়মশৃঙ্খলে বাঁধা এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অচলায়তনের উত্তরে একটা দেবীর অধিষ্ঠান। তাই ওই দিকের জানালা দীর্ঘ তিনশো পয়তাল্লিশ বছর ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই জানলা সুভদ্র কৌতূহলবশত খুলে দেখেছে। অচলায়তনের বিধান অনুযায়ী জানলা খোলা এক মহাপাপজনিত কাজ। কীভাবে সেই পাপ থেকে মুক্ত হবে তারই পথ খুঁজতে উপাধ্যায়ের কাছে তার আসা। 

কিন্তু পঞ্চক সুভদ্রের অসম সাহসিকতাপূর্ণ কাজের প্রশংসা করেছে। পঞ্চক বলেছে, তিনশো পঁয়তাল্লিশ বছরের অর্গল সে ভেঙেছে, যা সবার কাছে দৃষ্টান্তস্বরূপ। তাছাড়া অমঙ্গল তো কিছু হয় নি, এই কুসংস্কারের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে বেরিয়ে আসার পথ দেখিয়েছে সুভদ্র। তাই তার জয় ঘোষণা করেছে পঞ্চক। 

উপাধ্যায় মশাইও বিস্মিত কারণ, জানলা খোলার সঙ্গে সঙ্গে বালকের দুই চোখ পাথর হয়ে যাওয়ার কথা, তা তো হয় নি। আজ পর্যন্ত যা ঘটেনি, তাই ঘটেছে অচলায়তনে, এমনকি এই ব্যত্যয় কর্মের প্রায়শ্চিত্তবিধান কী হবে তাও তার জানা নেই। উপাধ্যায়ের কাছে অপ্রত্যাশিত ঘটনা তো বটেই তার সঙ্গে অমঙ্গল কিছু না ঘটায় তিনি আরও বিস্মিত হয়ে নির্বাক হয়ে গিয়েছিলেন।


৯. “যিনি সব জায়গায় আপনি ধরা দিয়ে বসে আছেন তাঁকে একটা জায়গায় ধরতে গেলেই তাঁকে হারাতে হয়।” – বক্তা কে ? মন্তব্যটির মর্মার্থ আলােচনা করাে।

(২০১৬, ২০২০) 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গুরু’ নাটকে আলোচ্য উক্তিটির বক্তা দাদাঠাকুর তথা গুরু। 

আলোচ্য ‘গুরু’ নাটকে দেখা যায়, দর্ভকপল্লিতে গুরুর সঙ্গে সাক্ষাতের পর আচার্য অদীনপুণ্য অচলায়তনের শাস্ত্রনির্ভর জীবনবিমুখ ধর্মসাধনায় নিজের অতৃপ্তির কথা গুরুকে জানান।

বিরাট বিশ্বসংসারে প্রতিটি প্রাণের মধ্যেই ঈশ্বর বিরাজমান। তাই নিছক সাধন, ভজন, পূজন বা আরাধনার মাধ্যমে ঈশ্বরকে লাভ করা যায় না। মানুষের সঙ্গে প্রাণের মিলনই ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের একমাত্র চাবিকাঠি। তাই দাদাঠাকুর অনায়াসে মিশে যান অস্পৃশ্য যূনক বা অন্ত্যজ দৰ্ভকদের সঙ্গে। দর্ভকদের ভাত ও মাষকলাইয়ের সামান্য আয়ােজনেও তার ক্ষুধাতৃপ্তি ঘটে। 

অচলায়তনের প্রাচীর প্রাণের প্রবেশের পথকে রুদ্ধ করে রেখেছে বলে দাদাঠাকুর মনে করেন। তিনি মনে করেন, অচলায়তনের পুথিনির্ভর জীবনসাধনা আসলে এক অভ্যাসের চক্র তৈরি করে, যা মানুষকে কোনাে জায়গাতেই এগিয়ে নিয়ে যায় না, কেবল নিজের মধ্যেই ঘুরিয়ে মারে। মন্ত্রতন্ত্র আর প্রায়শ্চিত্তের মধ্যে ধর্মের পরাকাষ্ঠা খোঁজা হয়েছে, কিন্তু মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের যে সহজ প্রতিষ্ঠা তার স্বরূপ উপলব্ধি করা সম্ভব হয় নি অচলায়তনিকদের পক্ষে। দাদাঠাকুর বিভ্রান্ত এবং বিপর্যস্ত আচার্যকে একথাই বােঝাতে চেয়েছেন।


১০. ‘গুরু’ নাটকে মোট কটি গান আছে ? শেষ গানটি কার জন্য গাওয়া হয়েছে ? গানটির মর্মার্থ লেখো।

(২০১৭) 

 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গুরু’ নাটকে মােট ৭টি গান আছে। 

আলোচ্য ‘গুরু’ নাটকে শেষ গানটি নবযুগচেতনার স্রষ্টা, সমস্ত বন্ধন ও সংস্কারের ঘেরাটোপ থেকে মুক্তি দেওয়া জ্যোতির্ময়ের (তিনি গুরুও হতে পারেন) জন্য গানটি গাওয়া হয়েছে। 

শেষ পর্যন্ত গুরু এসেছেন বীর যােদ্ধার বেশে। তিনি তাঁর অভীষ্ট সাধন করে বিজয়ী হয়েছেন। পুরাতন, জীর্ণ, প্রাণহীন রসহীন নিয়মের শৃঙ্খল, শুষ্ক প্রথাসর্বস্ব, নিছক পুথিনির্ভরতা সবকিছু ছিন্ন করে, ধ্বংস করে নতুন জীবনের সূচনা করেছেন তিনি। যেন আঁধারে ঢাকা রাতের অবসানে জ্যোতির্ময়ের আবির্ভাব। তিনি বিজয়ী বীর, নবজীবনের সূচনায় তাঁর হাতে নবীন আশার খড়গ। সেই খড়গ দিয়ে তিনি জীর্ণ আবেশের বন্ধন নির্দয়ভাবে কেটে মুক্ত প্রাণের অভ্যুদয় ঘটিয়েছেন। 

নব যুগচেতনার স্রষ্টা জ্যোতির্ময় তথা গুরু। তিনি নির্মল, তিনি নির্ভয়। প্রভাত সূর্যের মতাে তিনি রুদ্রসাজে সজ্জিত। দুঃখের পথে তাঁর তুর্যধ্বনি নিনাদিত। তিনি হৃদয়ে হৃদয়ে বহ্নিশিখা জ্বালিয়ে কলুষমুক্ত উদারচিত্ত গঠন করেন। মৃত্যুরূপী জড়তাকে ধ্বংস করে তাঁর জয় সূচিত হােক।


১১. “পঞ্চকদাদা বলেন অচলায়তনে তাঁকে কোথাও ধরবে না।” – বক্তা কে ? পঞ্চকদাদা কে ? ‘তাঁকে’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? ‘তাঁকে কোথাও ধরবে না’ – পঞ্চকদাদার এরকম মনে হয়েছে কেন ?

(২০১৭) 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘গুরু’ নাটকে আলোচ্য উক্তিটির বক্তা নাটকের প্রাণচঞ্চল চরিত্র পঞ্চকদাদা তথা পঞ্চক। 

প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে ‘তাঁকে’ বলতে অচলায়তনের গুরুর কথা বোঝানো হয়েছে। 

একটি শিক্ষা সম্বন্ধীয় আশ্রম হল অচলায়তন, যেখানে কেবলমাত্র উচ্চশ্রেণির সন্তানেরাই শিক্ষাগ্রহণের সুযােগ পায়। নিয়মনীতির বেড়াজালে সেই আয়তন এতটাই আবদ্ধ হয়ে পড়েছে যে, বাইরের আলাে বা খােলা হাওয়া দেখলে এরা ভয় পায়, তাই একে অচলায়তন নাম দেওয়া হয়েছে। যাকে আদর্শ করে এই আয়তন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেই গুরুর আগমন বার্তায় আশ্রমের সকল সদস্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠে। বালকদের কারও মনে ভয়, কারও মনে জেগে উঠেছে পুলক। তখনই এক বালক এই কথাটি বলে উঠেছে যা শুনে মনে হয় গুরু সম্পর্কে তাদের কোনাে ধারণাই জন্মায় নি।

আশ্রমের নিয়মবদ্ধ জীবন থেকে পঞ্চক একটু আলাদা। সে এই সব নিয়মের বিন্দুমাত্র তােয়াক্কা করে না। কারণ সে এগুলিকে একেবারেই বিশ্বাস করে না। গুরুকে সেও দেখে নি। তবে তার ধারণা গুরু বিশাল, মহৎ। তাই তাকে এই ক্ষুদ্র আশ্রমের ঘেরাটোপে ধরবে না। তার ধারণা গুরু এলে তাদের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। জীবনের সঠিক পথ দেখিয়ে তাদের এগিয়ে নিয়ে যাবেন গুরু। গুরুর আগমন ঘটবে সকল বাধাবিঘ্ন ছিন্ন করে মুক্ত পথে আনন্দের পসরা বয়ে। তাই তাঁকে মানুষের ক্ষুদ্র সংস্কারাচ্ছন্ন মনে ধরে রাখা যাবে না।


১২. “পৃথিবীতে জন্মেছি পৃথিবীকে সেটা খুব কষে বুঝিয়ে দিয়ে তবে ছাড়ি।” – কে কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি করেছে ? উক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও

(২০১৭) 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গুরু নাটকে অচলায়তনের পুথিনির্ভর যে জীবনসাধনা, সেখানে শাস্ত্র আচরণই একমাত্র পালনীয় বিষয়। অচলায়তনের দৃষ্টিতে অস্পৃশ্য যূনকরা ছিল নিছকই কর্মজীবী! তারা মন্ত্র জানে না, গুরুবাদ মানে না। সারাদিন ধরে নানারকম মন্ত্র আওড়ানাের পরিবর্তে কাজের মধ্যে যুনকেরা জীবনের সার্থকতা খোঁজে। তাই মাঠে চাষ করে তারা আনন্দ পায়। সেই কাজের মধ্যেই তারা প্রাণের সুর ও ভাষা খুঁজে পায়। চষা মাটির গন্ধে তারা বাতাস ভরিয়ে তােলে। রােদ বা বৃষ্টি, কোনাে কিছুই তাদেরকে এই কর্মমুখর দিনযাপন থেকে বিরত করতে পারে না। 

কাকুড়ের চাষ, খেসারি ডালের চাষ যাকে অচলায়তনের দৃষ্টিকোণ থেকে গর্হিত কাজ বলে মনে করা হয়, তার মধ্যে খাদ্য জোগানাের আনন্দকেই খুঁজে নেয় যুনকেরা। যুনকেরা বজ্রবিদারণ মন্ত্র পড়েনি, মরীচী, মহাশীতবতী বা উষ্ণীষবিজয় মন্ত্রও জানে না। কিন্তু তারা লােহার কাজ করে, ক্ষৌরকর্মের সময় গাল কেটে রক্ত বেরােলেও খেয়া নৌকোয় উঠে নদী পেরােতে ভয় পায় না। 

এইভাবে যূনকরা অচলায়তনের অন্ধকার কক্ষে নয়, জীবনের সার্থকতা খুঁজে পায় তাদের‌ কাজের মধ্যে, মুক্ত পৃথিবীতে। কাজের মধ্যে দিয়ে পৃথিবীর সঙ্গে‌ নিজেদের নিবিড় যােগাযােগকেই তারা প্রশ্নোক্ত মন্তব্যের সাহায্যে বােঝাতে চেয়েছে।


১৩. ‘আমরা প্রাণ দিয়ে ঘর বাঁধি, থাকি তার মাঝেই।’ – এই গান কারা গেয়েছে ? প্রাণ দিয়ে ঘর বাঁধার উদ্যম কীভাবে তাদের গানে ভাষা পেয়েছে

(২০১৮) 

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘গুরু’ নাটকে প্রশ্নোদ্ধৃত গানটি গেয়েছে যূনকেরা।

আলোচ্য নাটকে দেখা যায় যূনকেরা কর্মমার্গের মানুষ। কর্মই তাদের ধর্ম। কর্মই তাদের ধ্যান-জ্ঞান-তপস্যা। দল বেঁধে তারা মাঠে চাষ করে। যে ঘরে তারা বাস করে তা নিজ হাতে তৈরি করে। তারা জীবনযাপনের জন্য যাবতীয় কাজ দলবদ্ধ হয়ে করে। 

তারা যাই করে তা মনপ্রাণ দিয়ে একাগ্র চিত্তে করে। এই ভাবে তারা কাজে উদ্যম পায় এবং প্রেরণায়  উজ্জীবিত হয়। কাজের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রেরণা ও উদ্যম গানের ভাষা হয়ে তাদের কণ্ঠে উঠে আসে।


১৪. ‘গুরু’ নাটকের ঘটনাস্থলগুলি উল্লেখ করে কোন ঘটনাটিকে তোমার সর্বাপেক্ষা চিত্তাকর্ষক বলে মনে হয়েছে তা লেখো।

(২০১৮) 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘গুরু’ নাটকের প্রথম ঘটনাস্থল হল অচলায়তন। নাটকের এই প্রথম দৃশ্যে অনেক ঘটনা ঘটে। গুরু আসছেন সেই বার্তা যেমন প্রচারিত, তেমনি তাঁর শুভ আগমন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। সুভদ্র আয়তনের উত্তরদিকের জানালা খুলে বাইরের দৃশ্য দেখায় সে নাকি মহাপাপ করেছে, তার প্রায়শ্চিত্তের বিধান বড়ােই ভয়ানক ও প্রাণঘাতী। ওই ঘটনাকে ঘিরে আচার্যের অন্তরের পরিবর্তনের পরিচয়, পঞ্চকের মুক্ত ও উদার প্রাণের প্রকাশ, মহাপঞ্চক ও উপাধ্যায়ের আচার্য-বিরােধিতা, পরিশেষে পঞ্চক ও আচার্যের দর্ভকপল্লিতে নির্বাসন, মহাপঞ্চকের আচার্যের আসনে উপবেশন। 

নাটকের দ্বিতীয় ঘটনাস্থল পাহাড়-মাঠ। যূনকদের মাঝে পঞ্চক, দাদাঠাকুরের উপস্থিতি, যূনকদের নিয়ে দাদাঠাকুরের স্থবিরপত্তনের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা। এরপর তৃতীয় ঘটনাস্থল দর্ভকপল্লি। দৰ্ভকদের মাঝে আচার্য ও পঞ্চকের উপস্থিতি। দাদাঠাকুর দর্ভকদের গোঁসাই হয়ে সেখানে হাজির। অচলায়তন ভাঙার জন্য যুদ্ধযাত্রা। 

নাটকের চতুর্থ ঘটনাস্থল হল অচলায়তন। গুরুরূপী দাদাঠাকুর, যূনক ও দর্ভকদের উপস্থিতি। দাদাঠাকুরের অচলায়তনের প্রাচীর ধ্বংস। মহাপঞ্চক বাদে সকলেই তাঁকে গুরু বলে মেনে নেয়। এই ঘটনাগুলির মধ্যে শেষ দৃশ্যে যূনক ও দর্ভকদের নিয়ে যােদ্ধার বেশে দাদাঠাকুরের অচলায়তনে প্রবেশ ও ওই ঘটনাক্রমে নাটকের সমাপ্তির ঘটনাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়।

অচলায়তনের প্রাচীর ভেঙে পড়ায় অচলায়তনের স্থবিরতার অবসান, অন্ধত্ব-গোঁড়ামি-আচার-সর্বস্ব জীবনাচরণের সমাপ্তি, অপরদিকে নবীন প্রাণের নতুন চেতনার প্রতিষ্ঠা, সরস মুক্তপ্রাণের জয়যাত্রা, যা নাটকের মর্মার্থ, তার প্রকাশ অপূর্ব নাটকীয়ভাবে অর্থবহ হয়ে উঠেছে। এই কারণেই ঘটনাটি আমার কাছে আকর্ষণীয়।


১৫. ‘উনি আমাদের সব দলের শতদল পদ্ম’ – এখানে কাকে ‘শতদল পদ্ম’ বলা হয়েছে ? কেন তিনি ‘শতদল পদ্ম’ ?

(২০১৯, ২০২৩) 

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘গুরু’ নাটক থেকে উদ্ধৃতিটি গৃহীত হয়েছে। এখানে ‘শতদল পদ্ম’ বলতে যুনকদের দাদাঠাকুরকে বোঝানো হয়েছে। বক্তা হলেন প্রথম যুনক।

অচলায়তনের বাইরে যেখানে যূনকদের বাস সেখানে আছে পাহাড় ও খোলা মাঠ। যূনকরা ম্লেচ্ছ, অন্ত্যজ তাই অচলায়তন তাদের সংস্পর্শ বাঁচিয়ে চলে। যুক্তির স্বাভাবিক বিকাশেই যূনকরা চাষ করে, লোহা গলায় এই সব কাণ্ডকারখানা দেখে পঞ্চক অবাক হয়ে যায়। যূনকরা শাস্ত্ৰ জানে না, কিন্তু তারা গান জানে ৷

নাটকের শেষ অংশে যাকে আমরা গুরু বলে জানতে পারি তিনিই যূনকদের দাদাঠাকুর। কারণে অকারণে যূনকরা তাকে বারবার ভালোবেসে ডাকে। পঞ্চকেরও ইচ্ছে করে দাদা ঠাকুরকে ডাকতে কিন্তু সে যূনক নয়। দাদা ঠাকুর যে, ঠিক কার দলে তা নিয়ে পঞ্চকের মনে সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত দাদা ঠাকুরকে ডেকে পঞ্চক সে কথাও জানায়। প্রত্যুত্তরে প্রথম যূনক বলে যে, দাদা ঠাকুরের কোনো দল নেই, তিনি শতদল পদ্মের মতো সব দলেই বিরাজমান। 

নাটকে উল্লেখিত ‘শতদল পদ্ম’ শব্দের মধ্য দিয়ে বিশ্বমানবতার প্রাণস্বরূপকে বোঝানো হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানে লিখেছেন “আজি খুলিও হৃদয় দল খুলিও, আজি ভুলিও আপন পর ভুলিও।” প্রথম যূনকের কথায় এই গানেরই পুনরুত্থান দেখতে পায়। এ থেকে স্পষ্ট যে দাদাঠাকুর সংকীর্ণতার আধার নন, তিনি বিশ্ব মানবতার প্রাণস্বরূপ ৷


১৬. ‘গুরু’ নাটকে মোট কটি সংগীত রয়েছে ? নাটকটিতে সংগীতের ভূমিকা আলোচনা কর।

(২০১৯, ২০২২) 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গুরু’ নাটকে মােট সাতটি সংগীত বা গান রয়েছে।

গুরু নাটকের সাতটি গানের মধ্যে ছটি গান অচলায়তনেও ছিল, একটি গান নতুন সংযােজিত হয়েছে। গানের প্রয়ােগেও কিছু বদল ঘটিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। “তুমি ডাক দিয়েছ কোন সকালে” গানটিকে রবীন্দ্রনাথ গুরু নাটকে চারবার ভেঙে ব্যবহার করেছেন, যেটি অচলায়তনে দুবার ব্যবহৃত হয়েছিল। গুরুর আগমনে আত্মমগ্নভাবে পঞ্চক গেয়েছে তার এই আহ্বান গীত। 

পঞ্চকের দ্বিতীয় গান “ওরে ওরে ওরে আমার মন মেতেছে”-তে আকাশের ঘননীল মেঘের মধ্যে পঞ্চক শুনেছে উদার মুক্তির ডাক। আবার “এ পথ গেছে কোনখানে গাে কোনখানে” গানে পঞ্চক তার মুক্তির পথের সন্ধান করেছে পাহাড়ের পারে, সাগরের ধারে, দুরাশার দিকপানে।

যূনকদের “আমরা চাষ করি আনন্দে” আর “সব কাজে হাত লাগাই মোরা” গান দুটিতে যৌথ কর্মমুখর জীবনের আনন্দের কথাই প্রকাশ পায়। “ও অকূলের কুল, ও অগতির গতি” দর্ভকদের এই গানটিতে প্রকাশ পেয়েছে অকৃত্রিম ঈশ্বরভক্তি।

গুরু নাটকের শেষে “ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়” গানটি অচলায়তন নাটকে ছিল না। যে গুরুর নেতৃত্বে অচলায়তনে দীর্ঘকাল ধরে সযত্নে লালিত যাবতীয় প্রথাসর্বস্বতা বা সংস্কার ভেঙে পড়েছে, তাকে কেন্দ্র করেই এই গানটি গাওয়া হয়েছে। এইভাবে ঘটনার আবহ, চরিত্রের তাৎপর্য এবং নাট্যব্যঞ্জনাকে সার্থক করে তুলতে ‘গুরু’ নাটকে গান খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।


১৭. “যারা বিনা অপরাধে তোমাকে হাজার হাজার বছর ধরে মুখ বিকৃত করে ভয় দেখাচ্ছে।” – কে কাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছে ? তার এই কথার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

(২০২০) 

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘গুরু’ নাটকে অচলায়তনের আচার্য অদীনপূণ্য সুভদ্রকে উদ্দেশ্য করে এই কথাটি বলেছে।

নাটকের শুরুতে দেখা যায় যে, অচলায়তনের বালক শিক্ষার্থী সুভদ্র, আয়তনের উত্তর দিকের জানালা খুলে বাইরে চোখ রেখেছিল। অচলায়তনের নিয়ম অনুসারে এটা ভয়ানক পাপ। কারণ, আয়তনের উত্তর দিকে একজটা দেবীর অধিষ্ঠান। আর এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত হল মহাতামস সাধন। অর্থাৎ সুভদ্রকে ছয় মাস অন্ধকারে থাকতে হবে। শাস্ত্রাচারী মহাপঞ্চক আধিকর্মিক বর্ষায়ণে এই প্রায়শ্চিত্তের উল্লেখ পেয়েছে। তারই নেতৃত্বে উপাধ্যায় এবং আরো কয়েকজন মিলে সুভদ্রকে দিয়ে মহাতামস পালন করাতে চায়।

আবার, অচলায়তনের আচার্য অদীনপুণ্য সুভদ্রকে দিয়ে কোনো প্রায়শ্চিত্ত করাতে চান না। তার মতে সুভদ্র কোনো পাপ করে নি, বরং যারা মানুষকে পাপের ভয় দেখিয়ে প্রায়শ্চিত্তের কথা বলে পাপ তাদেরই। এই প্রসঙ্গেই তিনি প্রশ্নোদ্ধৃত কথাটি বলেছেন 

অচলায়তনের চিন্তা-চেতনায় মানুষের প্রাণ তুচ্ছ এবং সনাতন ধর্মবিধি চিরকালীন। সেখানে বিধিভঙ্গের অপরাধে কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তির ব্যবস্থা আছে। আচার্য অদীনপুণ্যই একসময় ছাত্রদের মনে এই পাপপুণ্যের বীজ বপন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি তার ভুল বুঝতে পেরে উপলব্ধি করেছেন যে সনাতন ধর্মবিধির নাম করে যারা দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে ভয় দেখিয়ে আসছে তারাই প্রকৃত পাপী।


১৮। “তোমার জয়জয়কার হবে সুভদ্র; তিনশো পঁয়তাল্লিশ বছরের আগল তুমি ঘুচিয়েছ।” – কে, কাকে বলেছে ? কেন বক্তার একথা মনে হয়েছে?

২+৩ (২০২২)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘গুরু’ নাটকে প্রাণ চঞ্চল চরিত্র পঞ্চক আলোচ্য কথাটি বালক শিক্ষার্থী সুভদ্রকে বলেছে।

অচলায়তনের বালক সুভদ্র কৌতূহল বশত আয়তনের উত্তর দিকের জানলা খুলে দেয়। আয়তনের শিক্ষায় বড়াে হয়ে ওঠা সুভদ্র এই ঘটনায় পরে নিজে থেকেই শঙ্কিত হয়ে ওঠে। কারণ, আয়তনের ধারণা অনুসারে এই ঘটনা ছিল ভয়ানক পাপ। তিনশাে পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে বন্ধ থাকা জানলা খােলাকে উপাধ্যায় মশাই সর্বনাশ বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু মুক্ত প্রাণের সমর্থক পঞ্চক স্বাগত জানায় সুভদ্রকে। শাস্ত্রাচারের বিরােধী পঞ্চক একজটা দেবীর সংস্কারকে দূরে সরিয়ে আলিঙ্গন করে সুভদ্রকে। তাঁর কথায় এই কাজ হল শাস্ত্রীয় সংকীর্ণতা ভাঙার সূচনা, অসামান্য সাহসের প্রকাশ।

পঞ্চক অচলায়তনের অন্ধ সংস্কারের প্রাচীর ভাঙার কাজে সুভদ্রকে সাথে চায়। শেষপর্যন্ত যখন সত্যিই প্রাচীর ভেঙে পড়ে তখনও সুভদ্রের প্রায়শ্চিত্ত সম্পূর্ণ হয় না। এই সময় পঞ্চক তাকে ডাক দেয় চারদিকের সব দরজা জানালা খুলে ফেলার কাজে তার সঙ্গী হতে। নিছক কৌতূহলের বশে যে কাজ সুভদ্র শুরু করেছিল, নাটকের শেষে এভাবেই তা প্রতীকী জয় পেয়ে যায়।


১৯। ‘ভয়ানক পুণ্য’ – কোন পুণ্যের কথা বলা হয়েছে? তা ভয়ানক কেন ?

১+৪। (২০২২)

বিশ্ববরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘গুরু’ শীর্ষক নাটক থেকে উদ্ধৃতাংশটি গৃহীত।

অচলায়তনের শিক্ষার্থী প্রথম বালক অপর এক শিক্ষার্থী পঞ্চককে এই কথা বলেছে।

টোড়াসাপের খোলস ও কালো ঘোড়ার লেজের চুল পুড়িয়ে ধোঁয়া তৈরি করাকেই এখানে ভয়ানক পুণ্য বলা হয়েছে।

অচলায়তন শিক্ষালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রথাবদ্ধ শাস্ত্রীয় বিধিবিধানে শিক্ষা দেওয়া হয়। বাইরের জগতের মানুষের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। অচলায়তনের মানুষরা কেবল কতকগুলি সংস্কার, শাস্ত্রীয়বিধিকে বিশ্বাসের জায়গায় স্থাপন করেছে। তাদের বিশ্বাস শাস্ত্রীয় বিধি, রীতি-নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করার মধ্য দিয়ে অধ্যাত্মসাধনার ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়। অচলায়তনের শিক্ষার্থীদের সেইভাবেই এই বিশ্বাসটিকে মনের মধ্যে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করা হয়েছে। তাদের শেখানো হয়েছে অচলায়তনের আচার-অনুষ্ঠান ও নিয়মনিষ্ঠা সব কিছু পালনের মধ্যে আসবে পূণ্য। আবার কোনো নিয়মবিধি লঙ্ঘনে ঘটবে তার চির-অমঙ্গল, মহাপাপ। 

অচলায়তনে এক ক্রিয়া অনুষ্ঠান হল পূর্বফাল্গুনী নক্ষত্র তিথিতে কাকিনী সরোবরের নৈর্ঋত কোণ থেকে টোড়াসাপের খোলস খুঁজে কালো রঙের ঘোড়ার লেজের সাতগাছি চুল দিয়ে বাঁধতে হবে। তারপর তাকে পুড়িয়ে ধোঁয়া করলে পিতৃপুরুষেরা এসে সেই ধোঁয়ার ঘ্রাণ নেবেন এবং সেই ঘ্রাণে তাদের পুণ্য হবে। সেই পুণ্য হবে খুব ভয়ানক।


২০। “তোমাদের হাত দিয়ে আমার যে শাস্তি আরম্ভ হল তাতেই বুঝতে পারছি গুরুর আবির্ভাব হয়েছে।” – নাটকে যে গুরুর পরিচয় আছে তা সংক্ষেপে লেখো।  

৫। (২০২২) 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গুরু’ নাটকটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হল দাদাঠাকুর। তিনি শিক্ষায়তনের গুরু। তিনিই প্রথম শিক্ষায়তনে আচার্যদেবকে প্রতিষ্ঠিত করে সুষ্ঠু ভাবে জীবনচর্যার নির্দেশ দিয়ে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু গুরুকে পুনরায় অচলায়তনে ফিরে আসতে হয়, কারণ, অচলায়তনের মধ্যে শাস্ত্রীয় বিধি, আচার-নিষ্ঠা, ব্রত-মন্ত্র উপবাসের বেষ্টনীতে সেখানকার মানুষের জীবনধারা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছিল। তাই নাটকের শুরুতেই গুরুর আবির্ভাবের সংবাদ শুনে অচলায়তনের সবাই উদবিগ্ন, চঞ্চল বা ভীত। মূলত এই দাদাঠাকুরই হলেন গুরু।

দাদাঠাকুরই নাটকের গতি ও চালক। তিনি অচলায়তনের মানুষদের যেমন চেনেন, তেমন যূনক ও দর্ভকদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। যূনকদের কাছে তিনি দাদাঠাকুর, আর দর্ভকদের কাছে তিনি গোঁসাইঠাকুর। যূনকদের ও দর্ভকদের জীবনচর্যার ত্রুটিগুলি দাদাঠাকুরের কাছে অজানা ছিল না, তাই এদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রেখে তাদেরকে মানবজীবন সাধনার পথে আনতে সচেষ্ট ছিলেন। 

পাশাপাশি অচলায়তনের মধ্যে আচার্য কী চান, মহাপঞ্চক সাধনক্ষেত্রে কোন কোন ভুলের পথে নিজেকে চালিত করছে এবং কোথায় তার কৃতিত্ব, পঞ্চককে দিয়েই বা কী কাজ করানো যেতে পারে, যূনকদেরই বা কীভাবে কাজে লাগানো যাবে – সবই দাদাঠাকুর জানতেন। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি প্রধানভাবে যোগসূত্রতা স্থাপন করে রেখেছিলেন।

দাদাঠাকুর ভগবান বা ঈশ্বর নন, কিন্তু তিনি মানুষকে চেনেন ও জানেন। তাঁর কাছে মানুষে মানুষে কোনো ভেদ নেই, জাতিভেদ বলেও কিছু হয় না। ভালোবাসার বন্ধনে মানুষকে বাঁধতে চেয়েছিলেন বলেই দর্শকদের দেওয়া খাবার পিঠে তিনি আনন্দে গ্রহণ করেছেন। তিনি যেমন সাধারণ আবার প্রয়োজনে তিনি অসাধারণ। তাই দাদাঠাকুর কিন্তু অচলায়তনে সাধারণের মতো প্রবেশ না করে যোদ্ধৃবেশে প্রবেশ করেছিলেন। আবার অচলায়তনের বালকদের কাছে তিনি একজন খেলার সঙ্গী। 

তিনি যখন মহাপঞ্চকের কছে নিজেকে ‘গুরু’ বলে পরিচয় দিয়েছেন তখন তার কথাবার্তা আবার সাংকেতিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে। অনেক গূঢ় কথা বলেছেন, তাঁর আচরণগুলিও অচলায়তনের বা সবার কাছে কিছুটা অস্পষ্ট থেকে গেছে। এটাই যদিও স্বাভাবিক কারণ তিনিই গুরুরূপে মানুষের মধ্যে এসে মানুষের মনের কালিমা দূর করে আলোর প্রকাশ ঘটাতে চেয়েছিলেন।


২১। “সেই ভরসাতেই তাঁর জন্যে অপেক্ষা করে আছি।” – কে, কার জন্য অপেক্ষা করে আছে? সে এলে কী করা হবে? ২+৩  (২০২৩)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘গুরু’ নাটকে প্রাণ চঞ্চল চরিত্র পঞ্চক অচলায়তনের গুরুর আগমনের অপেক্ষায় আছে।

অচলায়তনের বদ্ধ প্রাচীরে পঞ্চক ছিল মুক্তজীবনের প্রতীক। গুরুর আগমন সংবাদ সেই জীবনে নিয়ে আসে এক নতুন উদ্দীপনা। অবশ্য পঞ্চকের এই জীবনবােধের সঙ্গে অচলায়তনের অন্যান্যদের জীবনধারা কোনােভাবেই মেলে না।

অচলায়তনে গান নিষিদ্ধ, কিন্তু পঞ্চকের হাতিয়ার হয় সেই গান-ই। পঞ্চকের গানে অচলায়তনের নিয়মতন্ত্রের প্রতি কোনাে শ্রদ্ধা প্রকাশ পায় নি, বরং গুরুর জন্য ব্যাকুলতা ফুটে উঠেছে। তার প্রার্থনা অচলায়তনে মন্ত্র ঘুচে গান আরম্ভ হােক। প্রাণের উপরে জগদ্দল পাথরের মতাে চেপে বসা বােঝা থেকে প্রাণের মুক্তি ঘটুক। 

অচলায়তনের শাস্ত্রাচারি মহাপঞ্চক একে মতিভ্রম বলে উল্লেখ করলেও পঞ্চক তাতেই উল্লসিত হয়ে থাকে। তাই তার কেবলই মন্ত্রে ভুল হয়ে যায়। সে অপেক্ষা থাকে গুরুর আগমনের জন্য এবং অচলায়তনের প্রাণহীন প্রথা ভাঙার জন্য। অবশ্য মহাপঞ্চকের কথায় মন্ত্র ভুল হলে গুর পঞ্চককে আয়তন থেকে দূর করে দেবেন।

1 thought on “গুরু: একাদশ শ্রেণী বাংলার পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ হতে নাটক”

Leave a Comment